লা-মাযহাবিরা কোন পথে?
শুরু থেকেই সংগ্রাম করে পথ চলতে হয়েছে ইসলামকে। আলো-আঁধারির বুক চিড়ে চলতে হয়েছে
সম্মুখপানে। একটু স্বস্থি ও শান্তিতে ধর্ম-কর্ম পালন করা মুসলমানদের জন্য যেন আকাশকুসুম
স্বপ্ন ছিলো। একদিকে বহিঃশত্রু অন্যদিকে ঘরের সাপ; এই দুই শ্রেণী যুগ যুগ ধরে ইসলামকে ক্ষত-বিক্ষত করার জঘণ্য অপচেষ্টায় লিপ্ত রযেছে।
তারা একেক সময় একেক সুরতে আবির্ভূত হতে দারুণ পটু। ইসলামের প্রাথমিক যুগে সবচে বড় বাঁধা
ছিলো মক্কার মুশরিক সমাজ। তারা বিভিন্নভাবে প্রকাশ্য-গোপনে মুসলমানদের নির্যাতন করেছে।
কিন্তু কোন ফল হয়নি। তারা চলতে পথে কোন প্রতিবন্ধকতাই গড়ে তুলতে পারেনি। ইসলাম অটুট
গতিতে এগিয়ে চলেছে।
এদিকে মুশরিকরা দিশেহারা হয়ে যে কোন মূল্যে ইসলামের এই অগ্রযাত্রাকে রুখে দেয়ার জন্য হাত মেলায় ইয়াহুদিদের সাথে। বিশ্ব-বাটপাররা এ কাজের দায়িত্ব পেয়ে দারুণ খুশি হয়। তারা মুসলমানদেরকে ভীন্ন পদ্ধতিতে মার দেয়ার জন্য আব্দুল্লাহ বিন সাবাহর হাতে এজেন্ডা প্রদান করে। সে মুসলমানের নাম বেচে গভীর এক ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে যায়। ভেতরে ভেতরে নিজের ফেদায়ী গ্রুপ তৈরি করে গোপন মিশন চালায়। কিন্তু বিচক্ষণ সাহাবাদের দূরদর্শীতায় এই মুনাফিকরা স্থায়ী কোন সুবিধা করতে পারেনি। ধীরে ধীরে তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। ফলে আব্দুল্লাহ বিন সাবাহর গর্ভপ্রসূত বাচ্চারা ভীন্ন ব্যানার তৈরিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। অবশেষে আলি রাযিঃ এর ভালোবাসার মিথ্যা দাবী নিয়ে "শীআনে আলী" নামক ব্যানারে ওরা সমবেত হতে সক্ষম হয়। এরাই এক পর্যায়ে হযরত উসমান রাযিঃ কে শহীদ করে দেয় । এমন কী হযরত আলি রাযিঃ নিজেও তাদের হাতে শহীদ হন।
এদিকে মুশরিকরা দিশেহারা হয়ে যে কোন মূল্যে ইসলামের এই অগ্রযাত্রাকে রুখে দেয়ার জন্য হাত মেলায় ইয়াহুদিদের সাথে। বিশ্ব-বাটপাররা এ কাজের দায়িত্ব পেয়ে দারুণ খুশি হয়। তারা মুসলমানদেরকে ভীন্ন পদ্ধতিতে মার দেয়ার জন্য আব্দুল্লাহ বিন সাবাহর হাতে এজেন্ডা প্রদান করে। সে মুসলমানের নাম বেচে গভীর এক ষড়যন্ত্রে জড়িয়ে যায়। ভেতরে ভেতরে নিজের ফেদায়ী গ্রুপ তৈরি করে গোপন মিশন চালায়। কিন্তু বিচক্ষণ সাহাবাদের দূরদর্শীতায় এই মুনাফিকরা স্থায়ী কোন সুবিধা করতে পারেনি। ধীরে ধীরে তাদের মুখোশ উন্মোচিত হয়ে পড়েছে। ফলে আব্দুল্লাহ বিন সাবাহর গর্ভপ্রসূত বাচ্চারা ভীন্ন ব্যানার তৈরিতে মরিয়া হয়ে ওঠে। অবশেষে আলি রাযিঃ এর ভালোবাসার মিথ্যা দাবী নিয়ে "শীআনে আলী" নামক ব্যানারে ওরা সমবেত হতে সক্ষম হয়। এরাই এক পর্যায়ে হযরত উসমান রাযিঃ কে শহীদ করে দেয় । এমন কী হযরত আলি রাযিঃ নিজেও তাদের হাতে শহীদ হন।
এরপর ইতিহাসের অনেক অলিগলি পেরিয়ে সামনে চলতে থাকে শিয়া সম্প্রদায়। কিন্তু এক পর্যায়ে
আবারো তারা কোণঠাসা হয়ে পড়ে। গুটি কয়েক দেশ ছাড়া পুরো দুনিয়া ওদের ব্যাপারে উত্তাল
হয়ে ওঠে। নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার্থে তারা আবারও নতুন কৌশল অবলম্বন করে। তাদের থেকে
একটি দল বের হয়ে "সহিহ হাদিস" স্লোগানের আশ্রয় নেয়।কারণ তারা জানে, পৃথিবীর সরলমনা মুসলমানরা কুরআন ও হাদিসের ব্যাপারে খুবই স্পর্শকাতর।
ফলে শিয়া থেকে ধীরে ধীরে ওরা আহলে হাদিসের আবরণ ধারণ করে। প্রখ্যাত মুহাদ্দিস ইবনে
হুমাম রহঃ বলেন, ' আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, (সম্প্রতি গজে উঠা) আহলে হাদিসদের অগ্রণী ব্যক্তিবর্গ সবাই ছিলো
শিয়া;
একথা অবিশ্বাস্য মনে হলেও সত্য। প্রমাণ স্বরূপ বলতে পারি, আহলে হাদিসের পথিকৃৎ আব্দুল হক বেনারসির কথা। সে ইয়েমেনের শিয়া
যায়েদিয়া ফিরকার অনুসারী পন্ডিত শাওকানী হতে শিক্ষা-দীক্ষা লাভ করে।
প্রসিদ্ধ আহলে হাদিস গুরু নবাব সিদ্দিক হাসান খান
সাহেব তার “সিলসিলাতুল আসজাদ” নামক কিতাবে এ কথা স্বীকার করে লিখেছেন যে, “মধ্য বয়সে
আব্দুল হক বেনারসি শিয়া হয়ে যান।”
চরম ধোঁকাবাজি আর হাদিসের নামে মিথ্যাচারের মাধ্যমে তারা নিজেদের কাজ শুরু করে।
মাযহাবের শিকড়েও তারা কুঠারাঘাত করতে দ্বিধাবোধ করেনি। তারা বুঝতে পেরেছে যে, বর্তমান দুনিয়ায় মাযহাবের কারণেই ইসলাম টিকে আছে।যতোদিন মাযহাব
থাকবে ততোদিন ইসলাম থাকবে। তাই ওরা প্রথমে মাযহাবকে তছনছ করার স্লোগান তোলে। মাযহাবের
কারণে ইসলামে মতভেদ সৃষ্টির মিথ্যা অযুহাতে মানুষতকে বিভ্রান্ত করতে থাকে। অথচ এই গ্রুপটির
মাঝেই রয়েছে ১৬৪ টি প্রশাখা। ইসলামকে একদলীয় করণের নামে ওরা ১৬৪ টি ফিরকায় বিভক্ত।
তবে আনন্দের বিষয় হলো, এদেশের হক্কানি আলেমদের
দৃঢ় অবস্থান এবং শক্তিশালী মোকাবিলার সামনে ওরা বেশিক্ষণ টিকতে পারে না। আর তাই ফিল্ড
পর্যায়ে তাদের কাজ কিছুটা কমিয়ে দেয়। তারা ভেবে দেখে যে, অনলাইন জগতে মাযহাবি আলেমদের তেমন পদচারণা নেই, তাই দ্রুত তারা এই ময়দানটি দখলের চেষ্টা করে। বিশেষ করে ফেসবুককে
তারা সবচে বড় হাতিয়ার হিসেবে গ্রহণ করে। দীর্ঘদিন ধরে সস্তা মিডিয়ার জোরে সাধারণ জেনারেল
শিক্ষিতদের বিভ্রান্ত করে চলে। তবে হ্যাঁ, অনেক দেরিতে হলেও এই ফেসবুকে সত্যপন্থী মাযহাবিরা ওদের জন্য আতঙ্কে পরিণত হয়েছে।ফলে
লা-মাযহাবিরা ধীরে ধীরে এই মাধ্যমটি ছেড়ে মাযহাবি আলেমহীন মিডিয়ার দিকে ছুটছে।
সুতরাং আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বীর সেনানীদের উদ্দেশ্যে বলবো, আমরা এখনো মিডিয়ার জগতে ওদের থেকে একধাপ পিছিয়ে রয়েছি। যদি এই
একটি ধাপের ব্যবধান দূর করা যায় তাহলে ওই লা-মাযহাবিদের অগ্রযাত্রাকে চিরদিনের জন্য
রুখে দেয়া যাবে। পৃথিবীর বুক থেকে নিঃচিহৃ করা যাবে এই বাতিল প্রবৃত্তি-পূজারী গোষ্ঠিটাকে।
ইলমী বহস কম হয়নি। পর্যাপ্ত পরিমাণে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ হয়েছে। তবে কুকুরের লেজ বলে
কথা। সুতরাং এখন আর প্রতিঘাত নয় বরং আঘাত করতে হবে। নয়তো আমাদের প্রিয় অনেক মুখ তাদের
চুনকালিতে পুড়ে ছাই হয়ে যাবে।এ উদ্দেশ্যেই বর্তমানে চরম পর্যায়ের সাইবার যুদ্ধ চলমান।
এটা লা-মাযহাবিদের বিরুদ্ধে সত্যের যুদ্ধ। এই যুদ্ধের জন্য প্রয়োজন প্রচুর মালুমাত।
বিপক্ষ বাতিলের প্রতিটি কদমকে পর্যবেক্ষণ করা এবং প্রতিটি পদক্ষেপ বিশ্লেষণ জানা থাকা
খুবই জরুরী। কিন্তু আমরা অনেকেই এ ব্যাপারে অজ্ঞ বললেই চলে।
No comments:
Post a Comment