আত্মপক্ষ
কাজী হামদুল্লাহ
আমি চাই আমাদের সমাজের চিত্রটা পাল্টে যাক। সমাজ থেকে দূর হয়ে যাক সকল অন্যায়-অবিচার আর অনৈতিকতা। পথের ধারে কাউকে নির্যাতিত দেখলে আমার খুব কষ্ট লাগে। মনে চায় তক্ষুণি প্রতিবাদ করি, কান ধরে দু'টা থাপ্পড় দেই।
শহরের লোকাল বাসে কোন মেয়ের সাথে বখাটের ঘষাঘষি দেখলে শরীরটা জ্বলে ওঠে। বখাটের কানের নিচে কয়েকটা কষে লাগাতে ইচ্ছে করে। গ্রামে কোন ছিঁচড়ে চোর ধরতে পারলে সবার আগে ছুটে যাই। আচ্ছামতো তাকে ধোলাই করি। আমার দৃপ্ত শপথ 'সমাজে কোন চোর থাকতে দেবো না। '
তবে প্রতিদিন সকালে অফিসে যাবার আগে কাজের মেয়েটির দেরি সহ্য করতে পারি না। আমার কাজ জাস্ট টাইমেই হতে হয়। নয়তো তার প্রায় চামড়া খোলা ধোলাই করি।
অফিসে যাবার পথে বাসে করেই যাওয়া হয়। যেদিন কোন সুন্দরির পাশে সিট মিলে যায় বুয়ার উপর রেগে যাওয়া মনটা একদম ফ্রেশ হয়ে যায়। মনটাকে আরো চাঙ্গা করতে যথাযথ লেগে বসার চেষ্টা করি। অফিসে পাশের ডেস্কের মেয়েটিকেও খুব ভালো লাগে। কতো মিষ্টি একটি মেয়ে! তাই ঘরে বউ থাকা সত্ত্বেও মেয়েটিকে সময় দেই।
মাঝে মাঝে অফিসের বস কিছু কাজে আমাকে এদিক ওদিকে পাঠান। বিশ্বাস আছে বলেই তো! তাতে অবশ্য আমার ভালোই ইনকাম হয়। ১০০০০ হাজারের বামে একটি ১ লাতে পারলেই কেল্লা ফতে'! আমার ক্ষেত্রে এসব কোন ব্যাপারই না। আমি সব পারি।
যে সমাজ পাল্টাতে পারে, অফিসের সামান্য অংক পাল্টানো তার জন্য কী এমন! যে লোক পথচারীর প্রতি নির্যাতনে ব্যথিত হয়, বুয়ার দেরি সে কেন সহ্য করবে? লোকাল বাসে মেয়েদের সাথে নষ্টি-ফষ্টিতে যার গা জ্বালা করে, অফিসের সুন্দরির সাথে একটুখানি বিনোদন নিশ্চয়ই তার প্রাপ্য!! সমাজের অসংখ্য চোরের ধোলাইকারী অফিসের হিসেবে সামান্ন কমবেশি কী এমন দোষের!
আসলে দোষ তো আমাদের। আমরা শুধু সমাজকে পাল্টাতে চাই। নিজে পাল্টে যাবার সুযোগ আমাদের কোথায়?
No comments:
Post a Comment